🔬 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এমআরটি লাইন-৬ এখন একটি ‘তাপ করিডর’-এ পরিণত হয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই রেলপথ এবং এর দুই পাশের ৫০০ মিটার এলাকার তাপমাত্রা আগের চেয়ে ৩ থেকে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে। একে ‘স্থানিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি’ বলা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জেস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।
❓ কেন একটি উড়ালসড়কের কারণে তাপমাত্রা বেড়েছে?
গবেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু চিন্তায় ফেলার মতো কারণ, যার সঙ্গে 'আরবান হিট আইল্যান্ড' এবং 'অ্যালবেডো' প্রভাবের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
- 🌳 গাছ কাটা পড়েছে অসংখ্য: বিশাল প্রকল্প তৈরির সময় অসংখ্য গাছ কাটা পড়েছে। গাছের পাতা ‘প্রস্বেদন’ বা জলীয় বাষ্প ছাড়ার মাধ্যমে চারপাশের বাতাস প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখত, যা এখন নেই বললেই চলে।
- 🛣️ পিচ ও কংক্রিটের তাপ ধারণ ক্ষমতা: পিচ এবং মেট্রোস্টেশনের বিশাল কংক্রিটের ভায়াডাক্টের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি। এগুলো দিনের বেলা প্রচণ্ড তাপ শোষণ করে এবং রাতের বেলা ধীরে ধীরে তা বাতাসে ছড়িয়ে দেয়।
- 🌬️ বায়ুপ্রবাহে বাধা: মেট্রোর স্টেশনগুলো এতই বড় যে, সেগুলো স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহে দেয়ালের মতো বাধা সৃষ্টি করছে।
- 🔥 ওভেনের মতো দ্বিতীয় স্তর: ওপরের কংক্রিটের রেললাইন এবং নিচের মূল রাস্তার মাঝখানের জায়গাটিতে বাতাস আটকে গিয়ে একটি দ্বিতীয় স্তরের সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকটা ওভেনের মতো কাজ করছে এবং ভেতরের আবদ্ধ তাপকে সহজে বের হতে দিচ্ছে না।
📊 ঢাকার সবুজায়ন সংকট
একটি আদর্শ শহরের অন্তত ২৫ শতাংশ এলাকায় সবুজ গাছপালা বা খোলা জায়গা থাকা উচিত, কিন্তু ঢাকায় সেটি ১০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, তাপমাত্রা কমানোর জন্য এই মেট্রো প্রকল্পেই নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখা উচিত ছিল।
✅ সমাধানের পথ: কী করা যেতে পারে?
- 🌿 লতাজাতীয় গাছ লাগানো: মেট্রোরেলের পিলারগুলোর গা ঘেঁষে লতাজাতীয় গাছ লাগানো যেতে পারে, যা সরাসরি রোদের তাপ শোষণ করে পিলারগুলোকে ঠান্ডা রাখবে।
- 🌻 ছাদবাগান তৈরি: মেট্রোস্টেশনের বিশাল ছাদ, নিচের ডিভাইডার এবং লাইনের দুই পাশের ভবনগুলোতে ব্যাপকভাবে ছাদবাগান তৈরি করতে হবে।
- 🏙️ উচ্চ অ্যালবেডো উপকরণ ব্যবহার: রাস্তা ও ভায়াডাক্টের জন্য হালকা রঙের বা উচ্চ অ্যালবেডো সম্পন্ন উপকরণ ব্যবহার করলে তাপ প্রতিফলিত হবে।
- 💧 জলাধার ও ফোয়ারা স্থাপন: স্টেশন এলাকায় ছোট জলাধার বা ফোয়ারা স্থাপন করলে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে স্থানীয় তাপমাত্রা কমানো সম্ভব।
🎯 উপসংহার: উন্নয়নশীল দেশের মেগাসিটি হিসেবে ঢাকার জন্য মেট্রোরেলের মতো দ্রুতগামী গণপরিবহনের আসলেই কোনো বিকল্প নেই, তবে তা কখনোই পরিবেশকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে নয়। নগরজীবনকে সহজ ও গতিশীল করতে আমাদের যেমন আধুনিক অবকাঠামো দরকার, তেমনি সেই কংক্রিটের জঙ্গলকে কিছুটা সবুজের ছোঁয়া দিয়ে বাসযোগ্য রাখার দায়িত্বও আমাদেরই নিতে হবে।
✍️ লেখক: Khairul Alom Fardush
🔬 সোর্স: টিম সায়েন্স বি (Team Science Bee)
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে: Environmental Challenges Journal (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)
📌 নির্ভরযোগ্য সূত্র: এনভায়রনমেন্টাল চ্যালেঞ্জেস জার্নাল | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় | টিম সায়েন্স বি
🔗 স্পন্সর লিংক (হোস্টিং): Intelwebhost — সাশ্রয়ী ও দ্রুত হোস্টিং | আমার হোস্টার — ৬৫ টাকা/মাস থেকে শুরু
✍️ সংকলন ও উপস্থাপনা: @SorwarAlam
পরিবেশ ও নগর উন্নয়ন বিশ্লেষক | বিজ্ঞান সাংবাদিক
© ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সর্বশেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
🚀 হোস্টিং স্পন্সর: Intelwebhost & আমার হোস্টার
0 Comments