🇧🇩 বাংলাদেশে গ্যাস কনডেন্সেট থেকে পেট্রোল/অকটেন উৎপাদন
— তথ্য ও খরচ বিশ্লেষণ
১. কনডেন্সেট কী এবং এটি কোথা থেকে আসে?
কনডেন্সেট হলো প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উপজাত (by-product), বিশেষত সিলেট অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে বড় পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি মূলত হালকা তরল হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ যা গ্যাসের সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যায়, এবং এটি পৃথকীকরণ করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব।
২. উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
🏛️ সরকারি খাত
Sylhet Gas Fields Ltd (SGFL) রশিদপুরে একটি Fractionation Plant স্থাপন করে কনডেন্সেট থেকে প্রতিদিন ২,৫০০ ব্যারেল (৩,০০০ টন) অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদন শুরু করে। এর মাধ্যমে বার্ষিক ১ লক্ষ টনেরও বেশি পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ টন পেট্রোল, ২৫,০০০ টন কেরোসিন এবং ২৫,০০০ টন ডিজেল উৎপাদিত হচ্ছে।
🏭 বেসরকারি খাত
BPC বর্তমানে ৪টি বেসরকারি রিফাইনারি থেকে অকটেন কিনে, যেগুলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র বা আমদানিকৃত কনডেন্সেট প্রক্রিয়া করে অকটেন, পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদন করে। বর্তমানে পেট্রোলের ৮৪% আসে বেসরকারি রিফাইনারি থেকে।
৩. দেশীয় উৎপাদনের অবদান (সাম্প্রতিক তথ্য)
BPC কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশে বিক্রিত পেট্রোল ১০০% দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয় — স্থানীয় রিফাইনারিগুলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের কনডেন্সেট ও ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়া করে এই পেট্রোল সরবরাহ করে। অকটেনের প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত।
FY2023-24 সালে ৩,৮৭,২৫৬ টন অকটেন এবং ৪,৩০,৯৫২ টন পেট্রোল বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে Rupantarita Prakritik Gas Company Limited (RPGCL) মোট ১৬.৪৭ লক্ষ টন কনডেন্সেট প্রক্রিয়া করেছে।
৪. উৎপাদন খরচ ও মূল্য
💰 উৎপাদন খরচের তুলনামূলক সুবিধা
পরিশোধিত জ্বালানি (ডিজেল, অকটেন) আমদানির খরচ ক্রুড অয়েল আমদানির চেয়ে বেশি। যদি দেশেই ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা যায়, তাহলে খরচ অনেক কম হয়। বাংলাদেশে পরিশোধিত জ্বালানি ও ক্রুড অয়েলের মূল্য পার্থক্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় $১০।
📈 বর্তমান খুচরা মূল্য (অকটেন-৯৫):
২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে Octane-95 এর গড় মূল্য ছিল প্রতি লিটারে ১০২.৩৭ টাকা; সর্বনিম্ন ৮৯ টাকা (২০১৬ সালে) এবং সর্বোচ্চ ১৩১ টাকা (জুন ২০২৪ সালে)।
🏭 বেসরকারি রিফাইনারির মার্জিন: নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি রিফাইনারিগুলোকে প্রতি লিটার জ্বালানি বিক্রিতে BPC-কে ১ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
৫. মান ও মানের সমস্যা
কনডেন্সেট সরবরাহ বন্ধের আগে, বেসরকারি প্ল্যান্টগুলো ৮০ RON মানের পেট্রোল উৎপাদন করতে পারত। BSTI নির্ধারিত মান হলো ৮৯ RON। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পেট্রোলের মান যথেষ্ট উন্নত নয়।
৬. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
🔮 নতুন নীতি ও সম্প্রসারণ
সরকার সম্প্রতি বেসরকারি খাতে রিফাইনারি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী:
- ✅ একটি বেসরকারি রিফাইনারির ন্যূনতম বার্ষিক ক্ষমতা হতে হবে ১৫ লক্ষ টন
- ✅ উৎপাদনের প্রথম তিন বছর ৬০% জ্বালানি BPC-এর কাছে বিক্রি করতে হবে
- ✅ দেশীয় কনডেন্সেট ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে
এই উদ্যোগ বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📌 সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশে কনডেন্সেট থেকে পেট্রোল উৎপাদন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, তবে উৎপাদন খরচের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সরকারিভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট প্রতি লিটার উৎপাদন খরচের ডেটা সীমিত। বর্তমানে পেট্রোলের ১০০% এবং অকটেনের প্রায় ৫০% দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ, মান নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতের সুষম সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই দেশের জ্বালানি খাত আরও মজবুত হবে।
📌 তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) | সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (SGFL) | অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ২০২৪-২৫ | BSTI | বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি প্রতিবেদন | (hn)
0 Comments